Skip to toolbar

এসো——
মৌমিতা দাশগুপ্ত


কই এসো উঠে এসো
হাত ধর
তোমাকে আজ বড় দরকার,

ঐ দেখ, সামনে মৃত্যুমিছিল চলেছে
ঐ যে——হ্যাঁ ওরাই
ওরাই সেই উন্নত প্রথম সারির
মানব জাতি
ওরা পারছে না কিছুতেই
বারবার হারছে
তবুও মানতে পারছে না কিছুতেই
লড়াই করার শক্তি হারাচ্ছে প্রতিদিন
ক্ষীণ থেকে ক্ষীণতর হচ্ছে মনোবল,

ঐ যে দেখ——–
যে মেয়েটা মুখ নীচু করে কেঁদেই চলেছে একনাগাড়ে
ওর না বাবা মারা গেছে কাল রাতেই,
যখন একটা গোটা পাগল পাগল চাঁদে
গড়াগড়ি খাচ্ছিল তোমার সেকাল একাল,
সেই কবে গলা জড়িয়ে চাঁদের গল্প শুনেছিল জাতক
মনে নেই আর——-

আর ঐ যে গো হলুদ জামা পড়া লোকটা
এলোমেলো বিস্রস্ত চুলে কাকে যেন খুঁজছে
উদ্বিগ্ন দৃষ্টিতে উদভ্রান্ত নজর
আরে ওর আবাগী বউ মরেছে
আজই মরমী কোকিল ডাকা ভোরে,
সেই থেকে সব শবদেহ ঘাঁটছে
কিন্তু খুঁজে পাচ্ছে না কিছুতেই;

আর ঐ যে ছোট্ট শিশুটা গো
মুখ থেকে শুকিয়ে যায় নি এখনও
একফোঁটা দুধ
স্তনবৃন্ত থেকে ঝরে পড়া শেষ ফোঁটাটাই হবে হয়তো,
বেচারী ওওও তো জানেই না
কে ওর মা?
কেমন হাত পা ছুঁড়ে কাঁদছে দেখো—-

এবার চল ঐ পাতিপুকুরের কাছ ঘেঁষে
ক্লাবের বাঁদিকটায়, হ্যাঁ হ্যাঁ
এক্কেবারে তপুর চায়ের দোকানের সামনেটায়
বড্ড ভীড় গো—-
থিকথিকে জটলা হইহই ব্যাপার!
উৎসব নাকি আজ!
নাহ গো——
খাবার নিয়ে মারামারির শো চলছে নাকি!
এ কি——–
এ ওকে মারছে ও ওকে পিষে দিচ্ছে
হায় রে—–কে কার বাবা কে কার সন্তান?
সবাই হিংস্র, ঘাতক!

তাহলে বুঝতে পারছো তো
এখন তোমার কত্ত কাজ
এস, হাত বাড়াও, উঠে পড়
চাঁদ দেখার সময় নয় আজ,
মানুষকে উজ্জীবিত করে
সাহস উড়িয়ে দাও আকাশে বাতাসে
সাহায্যের হাত বাড়াক ওরা,
শক্তির লড়াইয়ে ধর্ম নয়
বিজ্ঞানের গা ঘেঁষে দাঁড়াক,
মন্দির মসজিদ নয়
জ্ঞানের আলো ছড়াক দিকে দিগন্তে;
চেতনার কুন্ডলী জাগ্রত করতে
একমাত্র তুমিই পারো
কবিতা আমার——–

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *