Skip to toolbar

করোনা এবং মানুষের আচরণগত অদলবদল
গৌতম রায়
কোবিদ ১৯ কে ঘিরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশগুলির লক ডাউন জনিত পরিস্থিতি সব দেশের ই অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে একটা  বড়ো প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। এই প্রতিক্রিয়ার জেরে দেশগুলি শক ডাউন ব্যবসতা শিথিল করা নিয়ে নানা ভাবনা চিন্তা শুরু করেছে।লক ডাউন শিথিল হলে করোনা সংক্রমণ জনিত সমস্যা যে কয়েকগুণ বৃদ্ধি পাবে – সে বিষয়ে সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই।
                       লক ডাউন শিথিল হলে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা যে হু হু করে বাড়বে, সে বিষয়ে সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই।তবে দীর্ঘস্থায়ী লক ডাউন যে অর্থনীতির ক্ষেত্রে একটা বড় ধরণের সমস্যা ডেকে আনবে- এই বাস্তবতাকেও কখনো অস্বীকার করা যায় না।এইসঙ্গে অস্বীকার করা যায় না , লক ডাউন জনিত অবস্থাকে কেন্দ্র করে সমাজের সবস্তরের মানুষদের ই স্বভাবজাত অদলবদলের সম্ভাবনাকেও।গোটা বিশ্বের প্রেক্ষিতের সাথেই আমাদের দেশ বা রাজ্যের আঙ্গিকে এটা খুব জোরদার ভাবে মনে রাখা দরকার যে, কোবিদ ১৯ জনিত অর্থনৈতিক এবং শারীরিক প্রেক্ষিতের মোকাবিলায় চিকিৎসা বিজ্ঞানী, অর্থনীতিবিদ, সমাজবিজ্ঞানীদের পরামর্শের পাশাপাশি , এই প্রলয়কালে মানুষের আচরণগত যে অদলবদলগুলি ঘটছে, সেই দিকেই আমাদের জোরদার লক্ষ্য রাখা দরকার।মানুষের এই আচরণগত অদলবদল গুলি কিন্তু কোবিদ ১৯ এর ভয়াবহকতা কমে আসার পর অর্থনৈতিক প্রতিক্রিয়ার মতোই বিশ্বের প্রতিটি মানুষের ব্যক্তিজীবনের নাত্যনৈমিত্তিকতার উপর খুব জোরদার ভাবেই প্রভাব ফেলবে।
                       আচরণগত পরিবর্তন আমাদের সাংস্কৃতিক জীবনের উপর, সামাজিক জীবনের উপর কি ধরণের অদলবদল ঘটাতে পারে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই জাতীয় , আন্তর্জাতিক স্তরের সমাজবিজ্ঞানীরা চিন্তাভাবনা করতে শুরু করে দিয়েছেন।নয়ের দশকের বাজার অর্থনীতি তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলির নিজস্ব চিরাচরিত সাংস্কৃতিক পরিমন্ডল কে ভেঙে তছনছ করে দিয়েছে।
                        আজকের ভারতবর্ষে, আমরা যাঁরা নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল ব্যাতিরেকে ধর্মনিরপেক্ষ চেতনায় বিশ্বাস করি, তাঁরা বহুত্ববাদী ভারতের কথা, দ্যোতনা, অভিব্যক্তিকে নিজের যাপনচিত্রের অঙ্গ হিশেবে ভেবে নিতে ভালোবাসি।এই সার্বিক বহুত্ববাদকে যখন বিশ্বায়নের নামে একটি একক দ্যোতনা হিশেবে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ আমাদের উপরে চাপিয়ে দিয়েছিল, তখন আমাদের ধর্মনিরপেক্ষ শিবিরের ভিতর যাঁর বামপন্থী দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে চলা মানুষ, তাঁরা ছাড়া ,আর কেউ বিশেষ প্রতিবাদ পর্যন্ত করেন নি, প্রতিরোধের চেষ্ঠা তো দূরের কথা।
                       বিশ্বায়নের নাম করে বিশ্বের প্রতিটি দেশের সামাজিক- সাংস্কৃতিক বৈচিত্রকে গিলে ফেলে সমার্কিন সাম্রাজ্যবাদের মনপছন্দ বিষয়টিকেই সমস্ত দেশগুলির উপর সংস্কৃতি বলে চাপিয়ে দেওয়ার একটা প্রবণতা নয়ের দশক থেকে শুরু হয়েছিল।বহুত্ববাদী সংস্কৃতিকে ধ্বংস করে একমাত্রিক সংস্কৃতির উপর ঝোঁকের এই মার্কিনী প্রবণতা আমরা প্রবল ভাবে আমাদের দেশে দেখতে পাচ্ছি ২০১৪  সালে কেন্দ্রে বিজেপি সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার পর থেকে।বিশ্বের অন্য দেশগুলিতে ও এই এককেন্দ্রিক প্রবণতা তীব্র হয়েছে।সাম্রাজ্যবাদী শক্তির এই আগ্রাসী মানসিকতা ও কিন্তু একটা ভাঙাচোরার উপরে দাঁড়িয়ে যেতে শুরু করেছে কোবিন ১৯ কে কেন্দ্র করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ধনী- দরিদ্র- শিক্ষিত- প্রথাগত শিক্ষার সুযোগ না পাওয়া সমস্ত ধরণের মানুষের আচরণগত উথালপাতালের ভিতর দিয়ে।
                          সামাজিক বিপণন বিশ্বায়নের ফলে একটা ভিন্নমাত্রায় মানুষের কাছে উঠে এসেছিল।দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, দেশভাগ ইত্যাদি রাজনৈতিক সঙ্কট ভারতের মানুষদের কাছে আর্থ- সামাজিক সঙ্কট কে যে জায়গায় দাঁড় করিয়ে দিয়েছিল, তা মানুষের আচরণগত আঙ্গিকে একটা বড় অদল বদল এনেছিল।দেশভাগ যেহেতু বাংলাকে সবথেকে বেশি দীর্ণ করেছিল, তাই দেশভাগের কালে বাংলার মানুষের আচরণগত অদলবদল টা সবথেকে বেশি আমরা দেখেছি।এই অদলবদলের ছবি অমিয়ভূষণের ‘ নির্বাস’ বা সমরেশ বসুর ‘ সওদাগর’ কিংবা প্রতিভা বসুর কিছুটা বাণিজ্যিক আকারের গল্প ‘ দুকুল হারা’ ভিতরে আমরা এপারের বাঙালি পাই।এপার থেকে ছিন্নমূল মানুষের যন্ত্রণার কথা আমরা জানতে পারি সেলিনা হোসেনের ‘ গায়ত্রী সন্ধ্যা’ র মাধ্যমে।
                     সেই আচরণগত পরিবর্তন টি সেদিন নানা গণ আন্দোলনের ভিতর দিয়ে মানুষকে লড়াইয়ের ময়দানে থেকে জীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছিল।উদাহরণ হিশেবে আমরা পশ্চিমবঙ্গের ট্রাম ভাড়া বৃদ্ধির ভিতর দিয়ে বিদেশি কোম্পানীর প্রতি স্বদেশি সরকারের অনুরাগের বিরুদ্ধে আন্দোলন, খাদ্য আন্দোলন ইত্যাদির উল্লেখ করতে পারি।বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ভাষা আন্দোলন, ছয় দফার লড়াই, মুক্তিযুদ্ধ ইত্যাদির কথা বলতে পারি।সামাজিক বিপণন টিকে রাষ্ট্রশক্তি যতোই কায়েমি স্বার্থে ব্যবহার করতে চাক না কেন, এইসময় কালের মানুষদের আচরণগত বৈশিষ্ট্য কিন্তু সেই বিপণন কে কখনোই বৈঠকখানা অতিক্রম করে হেঁসেলের ধারপাশে ঘেঁসতে দেয় নি।
                          সামাজিক বিপণনের একটি বিজ্ঞানলক্ষ্য ধারা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ উত্তর গোটা বিশ্বের রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতি সংযুক্ত করে দেয়।এই সংযুক্তিকরণের ক্ষেত্রে সোভিয়েট ইউনিয়ন, পূর্ব ইউরোপের যে দেশগুলি বামপন্থী ভাবধারার ভিতর দিয়ে একটা নোতন মাত্রা সমাজের বুকে উপস্থাপিত করেছিল , তাঁদের একটা বিশেষ ভূমিকা ছিল।কিউবা ,ভিয়েতনামের বিশেষ ভূমিকা ছিল।প্রাচ্য দুনিয়াতে চিনের একটা বড়ো প্রভাব ছিল।দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ উত্তর ঠান্ডা লড়াইয়ের পরিমন্ডল সামাজিক বিপণনে বিজ্ঞানমুখী গতিধারা বজায় রাখতে খুব বড়ো ভূমিকা পালন করেছিল। ঠান্ডা লড়াই কিন্তু বিশ্ব মানবতাকে এই শিক্ষা দিয়েছিল যে, বিপণনের রাজনীতিকে প্রতিহত করতে গেলে বহুত্ববাদী সংস্কৃতির ধারা উপধারাকে শুকিয়ে দিতে যাওয়া চলবে না।বহুত্ববাদী ধারা বজায় থাকলেই যে বিপণনের সংস্কৃতির ভিতর দিয়ে সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনকে প্রতিহত করতে পারা সম্ভব – এটা গোটা দুনিয়াকে শিখিয়েছিল বামপন্থী প্রতিরোধ।
                             সোভিয়েট ইউনিয়নের পতন, পূর্ব ইউরোপে বামপন্থীদের ক্রমশ পিছু হটা, প্রাচ্যে ধীরে ধীরে বামপন্থী রাজনীতির কোনঠাসা হয়ে পড়া, সংসদীয় রাজনীতির ক্ষেত্রেই কেবল নয়, মাঠে ময়দানের রাজনীতিতেও ভারতে, বাংলায় বামপন্থীদের ক্রমশ পিছতে থাকা নয়ের দশকের পর থেকে চলতে থাকা নয়া উদারীকরণ জনিত প্রেক্ষাপটে বিপণনের মাত্রিক পরিমন্ডল কে কি ভাবে সামাজিক প্রেক্ষিত কে প্রলম্বিত করতে থাকে, তার প্রক্ষাপটেই কিন্তু কোবিদ ১৯ কে ঘিরে গোটা বিশ্বের মানবসমাজের প্রতিক্রিয়ার নিরিখে ভারতের বা পশ্চিমবঙ্গের মানুষদের আচরণগত অদলবদল কে বুঝতে হবে।গোটা বিষয়টিকে কেবলমাত্র মনোবিজ্ঞানের আঙ্গিকে দেখলেই হবে না।বৃহত্তর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে যদি আমরা বিষয়টিকে না দেখি, তাহলে সামাজিক- সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটটিও অসম্পূর্ণ ই থেকে যাবে।
                            মানুষের বিপণন প্রীতির প্রবণতার দিকে লক্ষ্য রেখে উদার অর্থনীতির ধারক বাহকেরা থাঁদের বিপণনের ধারা তে আচরণ পরিবর্তনের তত্ত্বের প্রয়োগ ঘটিয়েছিলেন।সেই তত্ত্ব অনুযায়ী ই জনস্বাস্থ্য থেকে সুরক্ষা , এমন কি পরিবেশ বিজ্ঞানকে তারা প্রভাবিত করতে চেয়েছিলেন।এভাবে সামাজিক বিপণনকে তারা কোন বহুমাত্রিক পর্যায়ে উপনীত করতে পেরেছিলেন তা বোঝা যায় পরিবেশকে একটি অছিলায় পর্যবসিত করতে কেবলমাত্র রাজনৈতিক অভিষ্পার দ্বারা পরিচালাত হয়ে কলকাতা ময়দান থেকে বইমেলাকে উচ্ছেদের ঘটনার ভিতর দিয়ে।
                            বিজ্ঞানী এম রোসেনস্টক স্বাস্থ্য বিষয়ক একটি প্রণালী ( হেল্থ বৃলিফ মডেল, এইচ বি এম) তৈরি করেছেন।সেখানে একজন মানুষের চূড়ান্ত ভাবে অসুস্থতাকে এড়ানোর জন্যে যে আকাঙ্খা , সেই মনোবৃত্তির সঙ্গে স্বাস্থ্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত আচরণগুলি অনুপুঙ্খ ভাবে আলোচনা করা হয়েছে।রোগের হুমকি কে অতিক্রম করে মানুষের সুস্থ্য হয়ে ওঠার অদম্য ইচ্ছেকে সেখানে রোখীর ভালো হয়ে যাওয়ার কারণ হিশেবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিশেবে দেখানো হয়েছে।পাঠক যেন এটা মনে না করেন, কেবল রোগীর মানসিক ইচ্ছেকেই রোগ নিরাময়ের একমাত্র উপায় হিশেবে সেখানে চিহ্নিত করা হয়েছে।
                      সাধারণ সঙ্কেতমূলক সংবেদনের উপর এই যে গুরুত্ব আরোপ, সেটিকে শুধু কোবিন ১৯ কে  অতিক্রম করবার জন্যে ই বিশেষ ভাবে উল্লেখযোগ্য নয়।এই অতিমারির কালে মানুষের আচরণগত বৈলক্ষণ গুলি সম্পর্কেও এই ভাবনাচিন্তা খুব বেশি রকমের সক্রিয় ভূমিকা নিতে পারে।এই ভাবনাতে মানুষের একক জ্ঞান অপেক্ষা সন্মিলিত প্রচেষ্টাকে সবথেকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।একক প্রচেষ্টার ভিত্তিকে প্রতিষ্ঠিত করে নয়া উদারনীতি মানুষের সন্মিলিত ভাবনার পরিমন্ডল কেই ক্রমশ অকেজো করে দিতে শুরু করেছিল।এই প্রবণতা কিন্তু লক ডাউনের সূচনাপর্বে বিশ্বের ধনী- দরিদ্র, সবদেশেই , সবরকম মানুষের ভিতরে ছিল।সেই প্রবণতা কিন্তু মানুষের মনে এখন অতীতের দীর্ঘসময়ের মতো এখন আর বিশেষ স্থায়ী নয়।একক মাত্রা থেকে সন্মিলিত মাত্রার প্রতি একটা আকুন্ঠ কাকুতি নিয়ে মানুষের হাসফাঁস করবার প্রবণতা কিন্তু আমরা সামাজিক প্রেক্ষিতে দীর্ঘ হতে ক্রমশ লক্ষ্য করছি।
                         বহুত্ববাদ কে ধ্বংস করবার যে প্রচেষ্টায় নয়া উদারবাদের রূপ ধরে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ গত কয়েকদশক ধরে ক্রমশ সাফল্য পেয়ে ঋসছিল, বামপন্থীরা তাকে প্রতিহত করবার তাগিদে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে , তাঁদের নিজেদের ক্ষমতা অনুযায়ী আন্দোলন করছিলেন।বামপন্থীদের এইসব আন্দোলন একমুখী প্রবণতা থেকে সরে এসে আবার বহুমাত্রিক দ্যোতনায় সমাজের সার্বিক বোধ কে প্রতিষ্ঠিত করবার তাগিদের যে মাত্রা মানুষ পাচ্ছিল, সেই তাগিদ কিন্তু এই লক ডাউন কালে মানুষ নিজের অস্থিত্বরক্ষার অনুভূতি থেকেই অনেক বেশি পেতে শুরু করেছে।মানুষের এই নিজস্ব উপলব্ধি , মানুষ কে করোনা উত্তর বিশ্বে রাজনীতির কোনো নোতুন সজ্ঞা নিরুপনে উৎসাহিত করে কিনা– এটা র দিকে এখন সকলের নজর।
                        অন্নদাশঙ্কর তাঁর জীবন সায়হ্নে বলেছিলেন; তাঁদের যৌবনে ,তাঁরা সবথেকে বড়ো বিপদ হিশেবে ঠাওড়েছিলেন ফ্যাসিবাদকে।বিদায়কালে তাঁর সবথেকে বড়ো বিপদ মনে হয়েছিল, বিশ্বাসের অপমৃত্যু।তাঁর সেই আপ্তবাক্য যেন কোবিদ ১৯ ক্রান্ত বিশ্বের সবথেকে বড়ো উচ্চারণ।এই মারণব্যাধি ভারতে প্রবেশের মুখে ভারতবাসীর বিশ্বাস নিয়ে দেশের প্রধানমন্ত্রী ছিনিমিনি খেললেন তালি দেওয়া, থালা বাজানো, তারপর মৌমবাতি জ্বালবার ভিতর দিয়ে।অনেকের ই হয়তো জানা আছে , সিঙ্গাপুরের প্রশাসক ও এই এক ই পথ ধরেছিলেন।তিনি নিদান দিয়েছিলেন সমবেত সঙ্গীতের।থালা বাজানো, মোম জ্বালানো আর সবাই মিলে গান গাওয়া, এই দরণের গণহিস্টিরিয়ার ভিতর দিয়ে মানুষের ক্ষুধার ভূগোল কে একটা গণমৌতাতে ডুবিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল।সেই চেষ্টার ই অঙ্গ প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক প্যাকেজের ভিতর দিয়ে এই গ্রহণকালেও গরীব কে নিঃস্ব আর ধনীকে আরো ধনী করবার প্রবণতা।
                            অতিমারি ঘিরে ভারতের শাসকদের আচার আচরণ বিশ্বের দরবারে তাঁদের রাজনীতিক পরিচয়ের থেকে অভিনেতা পরিচয় টিকেই ক্রমশ বড় করে তুলছে।অভিনেতা হওয়ার দৌড়ে বিরোধীরাও যে খুব একটা পিছিয়ে আছেন, তা ভাববার কারণ নেই।অনেকটা ব্রিটিশ রাজনীতির কায়দায় , একদম সংসদীয় স্টাইলে আন্দোলনের ভিতরে বিরোধীরা সীমাবদ্ধ।ময়দানের রাজনীতি থেকে সামাজিক গণমাধ্যম টাকে ই তাঁরা সবথেকে কমফোর্ট জোন হিশেবে বেছে নিয়েছেন।বুর্জোয়া রাজনীতিকেরা বেশি হতাশাগ্রস্থ , না বামপন্থীরা- এ নিয়ে আগামীদিনে চাপান উতোর যে চলবে না- তা হলফ করে বলা যায় না।মানুষের আচরণগত পরিবর্তন কে বিজেপি সামাজিক বিভাজনের উপক্রম হিশেবে তুলে ধরছে।এইলক্ষ্যে তারা যে হিন্দু মুসলমানের তাস খেলছে, সেই খেলায় সব অবিজেপি রাজনীতিকেরাই কমবেশি জড়িয়ে পড়ছেন।বিশেষ করে জড়াচ্ছেন ভূমিস্তরের কর্মী, সমর্থকেরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *