Skip to toolbar

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পর্কে সি পি আই ( এম) নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন; উনি জল ঘুলিয়ে না জলে তৃষ্ণা নিবারণ করতে পারেন না।কোবিদ ১৯ , লক ডাউন, আন লক , আবার শণি – মঙ্গলবারের পুজোআচ্চা র মতো সপ্তাহে দুদিন লক ডাউন, বাকি দিন গুলি , চল পানসি বেলঘরিয়া– এইসব দেখে মনে হচ্ছে; সুজন বাবুর উদাহরণের থেকে আর ভালো কোনো মূল্যায়ণ বুঝি বা আমাদের রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পর্কে হতে পারে না।
                            গোটা দেশে যখন পুরোমাত্রায় লক ডাউন চলছে, সেই সময়কালে , আমাদের রাজ্যের মানুষ কে একদম রাজনৈতিক কারণে লক ডাউনকে কার্যত উপেক্ষা করবার জন্যে প্রতিদিন বিকেলে নবান্নে সাংবাদিক সন্মেলন নামক , আড্ডা তথা খোশ গল্প থেকে প্ররোচনা ছড়িয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা। প্রশাসনের সর্বোচ্চ পদে বসে থাকা একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব , করোনা অতিমারীর কালে যে এভাবে অবৈজ্ঞানিক, অযৌক্তিক বকবক বৈদ্যুতিন প্রচার মাধ্যমের সামনে বসে অনর্গল করে যেতে পারেন, এটা মানুষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে না দেখলে বুঝতেই পারতেন না।জানতেই পারতেন না।কেফল অপ্রাসঙ্গিক কথাবার্তাই নয়, সাধারণ মানুষের কাছে করোনা অতিমারী ঘিরে একটা তাচ্ছিল্য, অবহেলা এবং কোনো অবস্থাতেই স্বাস্থ্যবিজ্ঞান সম্মত সতর্কতা মানব না– এই মানসিকতা তৈরির প্ররোচনা যে একজন মুখ্যমন্ত্রী দিতে পারেন, সেটাও মানুষ জানতেই পারতেন না মমতার কথাগুলো না স্বকর্ণে শুনলে।
                 লক ডাউন বিষয়টিকেই কেন্দ্রীয় সরকার একটা ভয়ঙ্কর অপরিকল্পিত ভাবে দেশের মানুষের উপরে চাপিয়ে দিয়েছে।কেন্দ্রের চাপানো অপরিকল্পনা আর অবৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গিকে আরো ভয়াবহ একটা জায়গাতে পৌঁছে দিয়েছেন মমতা আর তাঁর প্রশাসন।করোনাকে ঘিরে ভাবনা চিন্তা যখন থেকে দানা বাঁধতে শুরু করেছিল, তখন থেকেই গোটা বিষয়টি নিয়ে মমতা এমন কিছু আচরণ করে যিভাচ্ছিলেন, মন্তব্য করছিলেন, যাতে বিষয়টি ঘিরে সিরিয়াসনেসের মানসিকতাই মানুষের ভিতরে তৈরি হতে পারছিল না।ডিম সেদ্ধ, আলু সেদ্ধ খেলে করোনা প্রতিরোধের ক্ষমতা বাড়বে।লেবু খেলে করোনা প্রতিরোধ শক্তি বাড়বে– এই ধরণের অবৈজ্ঞানিক কথা বলে তিনি সাধারণ মানুষের ভিতরে অসুখটি সম্পর্কে সঠিক চেতনা, বিজ্ঞান সম্মত সতর্কতার দৃষ্টিভঙ্গি ই গড়ে উঠতে দেন নি।
                         তার সাথেই ছিল রোগী এবং মৃত্যুর সংখ্যা কমানোর একটা অদ্ভূত প্রবণতা।রোগ নির্ণয়ের জন্যে পরীক্ষা এড়িয়ে রোগীর সংখ্যা কমিয়ে, মৃতের সংখ্যা কমিয়ে একটা কিম্ভূতুরে আত্মতৃপ্তি পেতে চেয়েছিলেন মমতা।করোনাতে মৃত্যু হলেও মৃত্যুর কারণ হিশেবে ভিন্ন কিছু লিখতে হবে- এই ধরণের তুঘলকী ফতোয়া দিয়ে গোটা বিষয়টিকে কেবল লঘু ই করেন নি, রোগ টি যাতে  অতিমারী পর্যায়ে পৌঁছে যায়, সে বিষয়ে বিশেষ ভাবে সক্রিয় ভূমিকা স্বয়ং পালন করেছিলেন।
                    এই অবস্থায় যা হবার তাই হয়েছে।মমতা নিজে কোনো আন্তর্জাতিক স্তরের পরামর্শ শোনেন নি।বিরোধীদের পরামর্শ শোনেন নি।ব্যক্তিপছন্দের চিকিৎসক, যিনি ভাইরোলজিস্ট ও নন, তাঁকে দিয়ে প্রচার করিয়েছেন, করোনা আদৌ প্রাণঘাতী কোনো রোগ ই নয়।এমনকি এই রোগে কোনো ওসুধ খাওয়ার ও দরকার নেই।এ ধরণের প্রচার এবং মমতার কার্যত দিশেহারা ভূমিকার জন্যে এই রাজ্যে এখন করোনা জনিত পরিস্থিতিকে অতিমারী, মহামারী জনিত আখ্যায় আখ্যায়িত করলেও খুব কম বলা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *