Skip to toolbar

কোবিদ ১৯ জনিত ভয়াবহ পরিস্থিতি গোটা দেশ জুড়ে।আই এম এ এর মতো সংস্থা প্রকাশ্যেই বলছে ; ভারতে গোষ্ঠী সংক্রমণ শুরু হয়ে গেছে।আন্তর্জাতিক স্তরের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত  জার্নাল গুলিও এক ই কথা বলছে।করোনায় আক্রান্ত এবং মৃতের সংখ্যা নিয়ে বহু টালবাহনা করা পশ্চিমবঙ্গ সরকার ও এ রাজ্যে গোষ্ঠী সংক্রমণের কথা স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছেন।লক ডাউন আর আনলকের একটা উদ্ভূতুড়ে খেলা গোটা দেশজুড়েই চলছে।এই অবস্থায় ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদের ধ্বংসস্তুপের উপর তথাকথিত রামমন্দিরের শিলান্যাসের দিন হিশেবে ধার্য করা হয়েছে আগামী ৫ ই আগষ্ট।
                     বহুমূল্যবান রূপোর ইঁট দিয়ে এই শিলান্যাস করবেন দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি- এমনটাই খবর পাওয়া যাচ্ছে।আর এস এস – বিজেপির শীর্ষনেতারা সহ তিনশোজন ভি ভিআইপি সেই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত হয়েছেন বলেও খবরে প্রকাশ।জানা যাচ্ছে , তিনদিন ধরে সেখানে নানা ধর্মীয় ক্রিয়াকর্ম চলবে।
                      আন্তর্জাতিক স্তরে করোনা মোকাবিলাতে সবথেকে নির্ভরযোগ্য উপায় হিশেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে , শারীরিক দূরত্বের বিষয়টি।এই শারীরিক দূরত্বের বিষয়টিকেই মোদি থেকে মমতা নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে সামাজিক দূরত্ব বলে গোয়েবলসের কায়দায় মানুষের মনে গেঁথে দিয়েছেন।করোনার এই ভয়াবহকতার ভিতরে বাবরি মসজিদের ধ্বংসস্তুপের উপর তথাকথিত রামমন্দিরের এই শিলান্যাসের নাম করে ব্যাপক জনসমাগমের যে সম্ভাবনা , তা তো গোটা দেশকে কেবল সাম্প্রদায়িক বিভৎসতাই নয়, ভয়াবহ গোষ্ঠী সংক্রমণের দিকে ঠেলে দেওয়ার একটি রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ।
                       করোনা, লক ডাউনের জেরে গোটা দেশের অর্থনীতি একদম ভেঙে পড়েছে।ভয়াবহ আর্থিক দুরবস্থার ভিতরে মধ্যবিত্ত, নিম্নবিত্তের মানুষেরা রয়েছেন।সর্বস্তরে চলছে ব্যাপক ছাঁটাই।বেকারি র সংখ্যা এখন করোনা রোগীর সংখ্যার সমতুল হয়ে পড়েছে।লক ডাউনের সুযোগ নিয়ে গোটা দেশজুড়ে চলছে ভয়াবহ ফাটকা কারবার।সাধারণ চাল- ডাল- তেল- নুন- আনাজপাতি- জামাকাপড়- ওসুধ– জীবনধারণের এইসব অত্যাবশ্যকীয় সামগ্রীগুলি এখন নিম্নবিত্ত তো কোন ছাড়, মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে চলে গেছে।মধ্যবিত্ত কে অতিক্রম করে অর্থনৈতিক সঙ্কট কোনো কোনো ক্ষেত্রে উচ্চবিত্তদের দুয়ারে পর্যন্ত ঘা দিতে শুরু করেছে।
                   করোনা ঘিরে আন্তর্জাতিক দুনিয়া যখন চরম সতর্কতা নিতে শুরু করেছিল , নরেন্দ্র মোদি তখন ট্রাম্পকে গুজরাটে গণসম্বর্ধনার নামে ব্যাপক জনসমাগম ঘটিয়েছিলেন।বিশ্বে সেই সময়ে করোনাতে সবথেকে বেশি আক্রান্ত দেশের লোকেদের সেই সম্বর্ধনা সভায় আমন্ত্রণ জানিয়ে তিনি দেশকে একটা ভয়াবহ অতিমারীর দিকে ঠেলে দিয়েছেন।
                   এই অবস্থায় কেবলমাত্র নিজের অপরাধকে আড়াল করতেই নয়, গোটা বিষয়টি থেকে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে , দিল্লির নিজামুদ্দিনে তবলিকের জামাত ঘিরে একটা ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক বিভাজন তিনি এবং তাঁর দল বিজেপি আর তাদের মস্তিষ্ক আর এস এস শুরু করে দেয়।মুসলমানেরাই করোনা ছড়াচ্ছে– এই বদমাইশিসূচক প্রচারে গোটা ভারতকে কলঙ্কিত করে দেওয়া হয়।এই বিভাজনের রাজনীতিকে মোকাবিলা করতে অ বিজেপি দলগুলি ও পর্যুদস্ত হয়ে পড়ে।অনলবর্ষী মহঃ সেলিম ভারতীয় রাজনীতিকদের ভিতর প্রথম মানুষ, যিনি গোটা হিন্দু সাম্প্রদায়িক শক্তি এই অসভ্যতা ঘিরে প্রথম সরব হন।তার দেড় দিন পরে সরব হয় তাঁর দল সি পি আই( এম) ।নীরব থাকেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।নিজের নির্বাচন কেন্দ্রের ভিতর তেলিনীপাড়াতে মুসলমানদের ‘ করোনা ‘ বলে ডাকার কাছে সবথেকে বেশি প্ররোচনা ছড়ায় সেখানকার বিজেপি সাংসদ।মমতার প্রশাসন , বিজেপি সাংসদের সেই সীমাহীন অপরাধ ঘিরে তাঁকে গ্রেপ্তার তো দূরের কথা, একটি এফ আই আর পর্যন্ত দায়ের করে না।
                     এভাবে গোটা দেশে কোবিদ ১৯ কে ঘিরে সাম্প্রদায়িক বিভাজনের ভিতর দিয়ে এই অতিমারীর কালেও নিজেদের রাজনৈতিক মাইলেজ পাওয়ার সব রকমের চেষ্টা বিজেপি শিবির করে।তৃণমূলের মতো তাঁদের স্বাভাবিক মিত্রেরা একদম নীরব থেকে এই সুযোগ পেতে বিজেপিকে সাহায্য করে।এমনকি সাধারণ বামপন্থীদের ভিতরেও একটা সাম্প্রদায়িক প্রবণতার প্রাদুর্বাব এইসব প্রচারের ভিতর দিয়ে অনুপ্রবেশ ঘটাতে সক্ষম হয় বিজেপি।
              এসব স্বত্ত্বেও সমস্ত রকমের সাম্প্রদায়িক প্ররোচনাকে ছাপিয়ে অতিমারীর সঙ্কট এখন গোটা দেশেই তীব্র থেকে তীব্রতর, তম করে তুলেছে অর্থনৈতিক সঙ্কটের প্রশ্ন দিকে।ভয়াবহ করে তুলেছে খাদ্যসঙ্কটের বিষয়টিকে, যা অচিরেই দুর্ভিকাষের করাল হাতছানি বলে আন্তর্জাতিক স্তরের সমাজবিজ্ঞানীরা চিহ্নিত করেছেন।গোটা দেশের ই স্বাস্থ্য ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে।কোবিদ আক্রান্ত সাধারণ রোগীরা চিকিৎসাই পাচ্ছেন না।অথচ কোবিদ আক্রান্ত অমিতাভ বচ্চন বা তাঁর পরিবারের লোকেরা বাতকর্ম করলেও মমতা থেকে , দেশের কেষ্টবিষ্টু রা তাঁদের মুহূর্মুহু ফোন করছেন। এইসব কেষ্টবিষ্টুদের কোনো তাপ উত্তাপ দেখতে পাওয়া যায় নি দেশের সাধারণ নাগরিকদের প্রতি।
                        কোবিদ ১৯ কে ঘিরে পরিস্থিতিকে সাম্প্রদায়িক অভিমুখ দিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে চেয়েছিল আর এস এস – বিজেপি।মমতা, নবীন পট্টনায়ক, অরবিন্দ কেজরিওয়াল, চন্দ্রবাবু নাইডুর মতো নেতারা, মোদির  কখনো প্রকাশ্য, কখনো গোপন বন্ধু হিশেবে এই কাজে বিজেপিকে সাহায্য করে গেছে।
                 তা স্বত্ত্বেও অর্থনৈতিক দুরবস্থা ঘিরে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ঘিরে এখন মোদি- মমতা- নবীন- কেজরিওয়াল- নাইডু , সকলের ই কপালে ভাঁজ পড়তে শুরু করেছে।দেশের ভয়াফহ অর্থনৈতিক সঙ্কট, ছাঁটাই, বেকারি, স্বাস্থ্য সঙ্কট, খাদ্যাভাব, কালোবাজারি, দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা– এইসব কিছুর মোকাবিলা করতে তাই আবার অতি পূরাতন সাম্প্রদায়িক অস্ত্রটি ঝোলা থেকে বের করেছে আর এস এস।তাইই সঙ্ঘের ‘ দেবী দুর্গা’ মমতা হয়তো ভাবছেন, আবার হিন্দু- মুসলমানের ভয়াবহ সংঘর্ষ লাগলে , বিজেপির লাভের গুড়ে, আমি ও নেপোয় দৈ মেড়ে দেব! সেই জন্যেই কারণে অকারণে প্রগলভ মমতা, করোনার এই ভয়াবহকতার ভিতরেও এতো ব্যাপক জনসমাগম ঘটিয়ে তথাকথিত রামমন্দিরের শিলান্যাস ঘিরে নীরব।
                       ভারতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জীবন্ত বিগ্রহ মুজফফর আহমদের জন্মদিন টিকে জেনে হোক, না জেনে হোক, বাবরি মসজিদের ধ্বংসস্তুপের উপর তথাকথিত রামমন্দিরের শিলান্যাসের দিন হিশেবে ঠিক করেছে হিন্দুত্ববাদীরা।মুজফফর আহমদের জন্মদিনের এই পুন্যদিন ই হোক হিন্দুত্ববাদী এবং তাদের সহযোগী প্রতিযোগিতামূলক সাম্প্রদায়িকদের শত ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করে সম্প্রীতি এবং সংখ্যালঘুর অধিকার প্রতিষ্ঠার নয়া দিগন্তের সূচনা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *